মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বাঁশখালীর নদ-নদী

বাঁশখালী উপজেলার নদী সাঙ্গু, জলকদর খাল, পুইছড়ি হৃদ, বামের ছড়া, চাম্বলের ছড়া সহ আরো কয়েকটি নদী রয়েছে

ভৌগোলিক অবস্থান

১।       বাঁশখালী উপজেলা উত্তরে শঙ্খ নদী ও  আনোয়ারা, পূর্বে পাহাড় শ্রেণী ও সাতকানিয়া, পশ্চিমে  বঙ্গোপ সাগর এবং দÿÿণে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া ও চকরিয়া। বাঁশখালীর উত্তর ২২°৫¢উত্তর অÿাংশ থেকে দÿÿণে ২১°৫৫¢উত্তর অÿাংশ দ্রাঘিমা পশ্চিমে ৯১°৫৫¢থেকে পূর্বে ৯২°১০¢পূর্ব দ্রাঘিমা

ভূ-প্রকৃতি?

জন বসতি

বাঁশখালী উপজেলাটি সমূদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে সমুদ্র পথে বিভিন্ন জায়গার লোক জীবিকার তাগিদে, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের লÿÿ্য, ধর্ম প্রচারের জন্যে, যুদ্ধ ÿÿত্র থেকে পালিয়ে নিরাপদে অবস্থান করার জন্যে ও বিভিন্ন কারণে এলাকায় বসতি স্থাপন করে।  

বঙ্গের রাজধানী গৌড় থেকে সামামত্মরাজ হামিদ উদ্দিন খাঁন এর সাথে লোকজন এসে জলদী এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। তাঁর সঙ্গে আসেন মৌলভী, বাহ্মণ, কায়স্থ, কর্মকার, কুম্ভকার, মালি, বেহারা (পাল্কী বাহক), তেলী, জেলে, বরজ, নাপিত, ধোপা, স্বর্ণকার ও নানা পেশার লোকজন।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে একজন হিন্দু জমিদার তাঁর বিভিন্ন পেশার প্রজাদের নিয়ে বাণীগ্রামে বসতি স্থাপন করেন।

চাম্বলের লোকজন ভারতের মধ্য প্রদেশের চম্বল নামক স্থান থেকে একজন দরবেশের সঙ্গে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাছাড়া বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে আরব ও আফগানিসত্মান থেকে লোকজন এসে বসতি স্থাপন করেন।  

নামকরণ?

বাঁশখালীর ইতিহাস প্রসঙ্গ

১৫২৫ সালের দিকে নুসরৎ শাহ আরাকানের ঘরোয়া বিবাদ ও শাসকগণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম পূর্ণদখল করেন। খোদাবখশ্ খানকে দÿÿণ চট্টগ্রামের সামমত্মশাসক নিযুক্ত করেন, চকরিয়া ছিল তার শাসককেন্দ্র। এরপর তা গিয়াস উদ্দীন মাহমুদ শাহর রাজত্বকাল অবধি-(১৫৩৮খ্রিঃ) স্থায়ী হয়েছিল’’। (চট্টগ্রামের ইতিহাস- ডঃ আমহদ শরীফ- পৃষ্ঠা-৩৯) তারই শাসন কালে ১৫৩৮ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত পর্তুগীজ ভূ-তাত্বিক জোয়াও দ্য ব্যরসের মানচিত্রে দÿÿণ চট্টগ্রামেকে ‘এস্টাডো কোদাবাসকাম’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমান বাঁশখালী নামক ভূ-ভাগটি খোদাবখশ্ খানের রাজ্যের অমত্মর্ভূক্ত চকরিয়ারই একটি অংশ ছিল। যদিও ত্রিপুরা রাজমালায় ভিন্নমত পোষণ করে বলা হয় যে, ‘‘আরাকান ও ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যে একটি ‘কোডাবাস্কাম’ নামে আরেকটি রাজ্য চিত্রিত রহিয়াছে। ইহাকে আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম নির্ণয় করিতে পারি।’’ (রাজমালা ও ত্রিপুরার ইতিহাস- পৃ: ৬৩) ত্রিপুরার রাজমালার বর্ণিত ‘কোডাবাস্কাম’ পার্বত্য চট্টগ্রাকে চিহ্নিত করা তথ্যটি তেমন নির্ভর যোগ্য নয় মর্মে আমার ধারণা। জোয়াও দ্য ব্যরসের চিত্রিত মানচিত্রে বর্ণনানুসারে দÿÿণ চট্টগ্রামের অঞ্চলই খোদাবখ্শ খানের এস্টেট এ তথ্যটি ঐতিহাসিক ভাবে সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত। ইংরেজ শাসনামলেই  রেকর্ডপত্রে ‘বাঁশখালীর’ নাম পাওয়া যায়। ইংরেজ শাসকগণ রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে বিভিন্ন এলাকাভাগ করে রাজস্ব সংগ্রহ করতেন।  ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ শাসকগণ কালেক্টর পদ সৃষ্টি করেন। তখন থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য এলাকাসমূহে বিভিন্ন চাকলায় বিভক্ত করেন। চট্টগ্রামকে ০৯(নয়)টি চাকলায় বিভক্ত করেন। (১) নিজামপুর, (২) আওরঙ্গাবাদ, (৩) ভাটিয়ারী, (৪) নোয়াপাড়া, (৫) রাঙ্গুনিয়া, (৬) চক্রশালা, (৭) দোহাজারী, (৮) বাঁশখালী ও (৯) দেয়াং।

দÿÿণ চট্টগ্রামের শাসনকেন্দ্র খোদাবখ্শ খানের সময় চকরিয়া হলেও পরবর্তীতে শাসনকেন্দ্র স্থানামত্মরিত হয় রামুতে। ম্যানরিক ও রালফ্ ফিচ রামুকে শাসনকেন্দ্র দেখেছেন। রামকোটের তার ধ্বংসাবশেষ আছে। এখানে উলেস্নখ্য যে, পর্তুগীজ পাদ্রী ম্যানরিক ১৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে ২৫ শে সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে অবতরণ করেন এবং ১৬৩৫ সাল পর্যমত্ম চট্টগ্রামে অবস্থান করেছিলেন।