মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি

থানা স্থাপিত ১৯৫৮খ্রিঃ, উপজেলা-১৯৮৩খ্রিঃ।

১৫২৫ সালের দিকে নুসরৎ শাহ আরাকানে ঘরোয়া বিবাদ ও শাসকগণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম পূনঃ দখল করেন। খোদাবক্স খানকে দক্ষিণ চট্টগ্রামে সামন্ত শাসক নিযুক্ত করেন, চকরিয়া ছিল তার শাসন কেন্দ্র । এরপর তা গিয়াস উদ্দিন মাহম্মুদ শাহ রাজত্বকাল অবধি স্থায়ী হয়েছিল। তারই শাসনকালে ১৫৩৮ খ্রিঃ সনে প্রকাশিত পর্তুগীজ ভূতাত্ত্বিক জোয়াও দ্য ব্যরসের মানচিত্রে দক্ষিণ চট্টগ্রামকে এস্টাডো কোদাবাসকাম বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে বাঁশখালী নামক ভূ-ভাগটি খোদাবখশ খানের রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত চকরিয়ারই একটি অংশ ছিল। যদিও ত্রিপুরা রাজমালায় ভিন্নমত পোষণ করে বলা হয় যে, আরাকান ও ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যে কোডাবাসকাম নামে আরেকটি রাজ্য চিত্রিতআছে।এটি আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম ধরে নিতে পারি। তবে ত্রিপুরার রাজমালায় বর্ণিত কোডাবাস কাম পার্বত্য চট্টগ্রামকে চিহ্নিত করা তথ্যটি তেমন নির্ভর যোগ্য নয়। জোয়াও দ্য ব্যরসের মানচিত্রে বর্ণনানুসারে দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলই ঐতিহাসিকভাবে সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত। ইংরেজ শাসন আমলের রেকর্ডপত্রে বাঁশখালীর নাম পাওয়া যায়। ইংরেজ শাসকগণ রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে বিভিন্ন এলাকা ভাগ করতেন। ১৭৭২খ্রিঃ সনে ইংরেজ শাসকগণ কালেক্টর পদ সৃষ্টি করে।তখন থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য এলাকা সমূহে বিভিন্ন চকলায় বিভক্ত করেন। চট্টগ্রামকে ৯টি চাকলায় বিভক্ত করেন। (১) নিজামপুর (২) আওরঙ্গাবাদ (৩) ভাটিয়ারী (৪) নোয়াপাড়া (৫) রাঙ্গুনিয়া (৬) চক্রশালা (৭) দোহাজারী (৮) বাঁশখালী (৯) দেয়ান। দক্ষিণ চট্টগ্রামে শাসন কেন্দ্র কোদাবখশ খানের সময় চকরিয়া হলেও পরবর্তীতে শাসনকেন্দ্র স্থানান্তরিত হয় রামুতে। ম্যানরিক ও রালফ্ ফিচ রামুকে শাসনকেন্দ্র দেখেছেন। রামকোটে তার ধ্বংসাবশেষ আছে। এখানে উলেখ্য যে, পর্তুগীজ পাদ্রী ম্যানরিক ১৬২৯ খ্রিঃ সনের ২৫সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে অবতরণ করেন এবং ১৬৩৫খ্রিঃ সন পর্যন্ত চট্টগ্রামে অবস্থান করেন।  এতে অনুমান করা যায় যে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের শাসনকেন্দ্র ১৬২৯খ্রিঃ সনের পূর্বে চকরিয়া থেকে রামুতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। বাঁশখালীও তখন রামু শাসনকেন্দ্রের অধীনে ছিল। সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে শায়েস্তা খান ১৬৬৬খ্রিঃ সনে চট্টগ্রাম জয়ের পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম আরাকানীদের কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ১৬৬৬ খ্রিঃ থেকে ১৭৬০খ্রিঃ পর্যন্ত মুঘলদের রাজত্বে এ অঞ্চল শাসিত ছিল। এ থেকে অনুমান করা যায়, ইংরেজ শাসন আমলে রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে নোয়াবাদা সৃষ্টি হওয়ার পরই বাঁশখালী নামক জায়গাটির পরিচিতি সরকারীভাবে স্বীকৃতি  লাভ করে।